রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ আমাদের সম্পর্কে  ·  যোগাযোগ  ·  গোপনীয়তা নীতি

SSC GPA Calculator

📊 SSC GPA ক্যালকুলেটর

প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড নির্বাচন করুন — GPA সাথে সাথে হিসাব হবে

SSC GPA কী?

GPA-এর পূর্ণরূপ Grade Point Average। SSC পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ের নম্বরকে গ্রেডে (A+, A, A-...) রূপান্তর করা হয়, প্রতিটি গ্রেডের নির্দিষ্ট পয়েন্ট থাকে। এই পয়েন্টগুলো থেকে একটি সূত্রে চূড়ান্ত GPA বের হয় — সর্বোচ্চ ৫.০০। কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে বৃত্তি — সবখানে এই GPA-ই মুখ্য।

SSC GPA কীভাবে হিসাব হয়?

SSC-তেও HSC-এর মতোই নিয়ম — ৬টি মূল বিষয়ের পয়েন্টের সাথে ৪র্থ বিষয়ের বোনাস যোগ করে ৬ দিয়ে ভাগ।

GPA = (৬টি মূল বিষয়ের মোট পয়েন্ট + ৪র্থ বিষয়ের বোনাস) ÷ ৬

৪র্থ বিষয়ের বোনাস নিয়ম

৪র্থ (ঐচ্ছিক) বিষয়ে ২.০০-এর উপরে যত পাবেন, ততটুকুই বোনাস হিসেবে যোগ হবে। ২.০০ বা তার নিচে পেলে কোনো বোনাস নেই — তবে ফেল করলেও মূল ফলে প্রভাব পড়ে না।

৪র্থ বিষয়ের গ্রেডবোনাস
A+৩.০০
A২.০০
A-১.৫০
B১.০০
C বা নিচে০.০০
💡 উদাহরণ: মূল ৬টি বিষয়ে মোট ২২.৫০ পয়েন্ট, ৪র্থ বিষয়ে A (বোনাস ২.০০)। মোট = ২৪.৫০ → GPA = ২৪.৫০ ÷ ৬ = ৪.০৮।

SSC গ্রেডিং স্কেল

নম্বরগ্রেডপয়েন্ট
৮০–১০০A+৫.০০
৭০–৭৯A৪.০০
৬০–৬৯A-৩.৫০
৫০–৫৯B৩.০০
৪০–৪৯C২.০০
৩৩–৩৯D১.০০
০–৩২F০.০০

শাখা অনুযায়ী মূল বিষয়

বিজ্ঞান শাখা: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান/উচ্চতর গণিত (একটি মূল, একটি ৪র্থ)।

মানবিক শাখা: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ইতিহাস/ভূগোল/অর্থনীতি (শাখা অনুযায়ী) + ঐচ্ছিক বিষয়।

ব্যবসায় শিক্ষা: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, হিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, ব্যবসায় উদ্যোগ + ঐচ্ছিক বিষয়।

SSC GPA দিয়ে কলেজে ভর্তি

একাদশ শ্রেণিতে (কলেজ) ভর্তি হয় SSC-এর GPA ও নম্বরের ভিত্তিতে — কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেই। ভালো কলেজে (যেমন নটর ডেম, ঢাকা কলেজ, ভিকারুননিসা) ভর্তির জন্য GPA ৫.০০ বা তার কাছাকাছি লাগে। ভর্তির আবেদন অনলাইনে xiclassadmission.gov.bd-এর মাধ্যমে হয়।

  • সরকারি কলেজ: সাধারণত GPA ৪.৫০+ লাগে ভালো কলেজে।
  • বেসরকারি ভালো কলেজ: GPA ৪.০০+ সাধারণত নিরাপদ।
  • বিষয়ভিত্তিক নম্বর: শুধু GPA নয় — বিজ্ঞানে ভর্তির জন্য বিজ্ঞান বিষয়গুলোতে ভালো নম্বর দেখা হয়।

বৃত্তি ও GPA

SSC-তে ভালো GPA (বিশেষ করে A+) পেলে শিক্ষা বোর্ড বৃত্তি পাওয়া যায় — ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ — দুই ক্যাটাগরিতে। বোর্ডভেদে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী বৃত্তি পায়। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি বৃত্তিতেও (যেমন ডাচ-বাংলা ব্যাংক বৃত্তি) SSC-এর GPA মুখ্য যোগ্যতা।

এসএসসি জিপিএ ক্যালকুলেশন (ssc gpa calculation)

ssc gpa calculation — হাতে-কলমে জিপিএ বের করার নিয়ম শিখতে চান? উপরের ক্যালকুলেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে দিলেও সূত্রটা জানা থাকলে নিজে যাচাই করতে পারবেন। চারটি ধাপ —

  1. প্রতিটি বিষয়ের গ্রেড থেকে পয়েন্ট নিন — A+ = ৫.০০, A = ৪.০০, A- = ৩.৫০, B = ৩.০০, C = ২.০০, D = ১.০০, F = ০.০০।
  2. ৬টি মূল বিষয়ের পয়েন্ট যোগ করুন — বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও শাখার ৩টি মূল বিষয়।
  3. ৪র্থ বিষয়ের বোনাস যোগ করুন — ২.০০-এর উপরে যতটুকু, ততটুকুই। (A+ = ৩.০০, A = ২.০০, A- = ১.৫০, B = ১.০০ বোনাস।)
  4. মোটকে ৬ দিয়ে ভাগ করুন — ৫.০০-এর বেশি হলে ৫.০০-ই চূড়ান্ত।
💡 পূর্ণ উদাহরণ: মূল ৬টিতে — বাংলা A+ (৫.০০), ইংরেজি A (৪.০০), গণিত A+ (৫.০০), পদার্থ A (৪.০০), রসায়ন A- (৩.৫০), জীববিজ্ঞান B (৩.০০)। মোট = ২৪.৫০। ৪র্থ বিষয় (উচ্চতর গণিত) A → বোনাস ২.০০। সর্বমোট = ২৬.৫০ → GPA = ২৬.৫০ ÷ ৬ = ৪.৪২।

মাদ্রাসা বোর্ড (দাখিল) জিপিএ

দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য সুখবর — GPA হিসাবের মূল সূত্র সব বোর্ডে একই, মাদ্রাসা বোর্ডেও। পার্থক্য শুধু বিষয়ের নামে। দাখিলে মূল বিষয়গুলো হলো — কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ, হাদিস শরিফ, আরবি, বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ শাখা অনুযায়ী বিষয়; আর ৪র্থ (ঐচ্ছিক) বিষয় হিসেবে থাকে অতিরিক্ত বিষয়।

  • সূত্র একই: (৬টি মূল বিষয়ের পয়েন্ট + ৪র্থ বিষয়ের বোনাস) ÷ ৬, সর্বোচ্চ ৫.০০।
  • বোনাস নিয়ম একই: ৪র্থ বিষয়ে ২.০০-এর উপরের অংশই বোনাস।
  • ফেল নিয়ম একই: মূল বিষয়ে F থাকলে ফেল; ৪র্থ বিষয়ে F-এ সমস্যা নেই।

উপরের ক্যালকুলেটরে দাখিলের বিষয়গুলোর গ্রেড ৭টি ঘরে বসালেই GPA বেরিয়ে আসবে — বোর্ডভেদে কোনো আলাদা হিসাব নেই।

গোল্ডেন জিপিএ ৫

গোল্ডেন জিপিএ ৫ — শুনলেই বোঝা যায় এটা বিশেষ কিছু। এর অর্থ: প্রতিটি বিষয়ে (৪র্থ বিষয়সহ) আলাদাভাবে A+। শুধু গড়ে ৫.০০ হলেই গোল্ডেন নয় — এটা বোর্ডের অফিসিয়াল টার্ম নয়, প্রচলিত নাম।

  • GPA ৫.০০: গড়ে ৫.০০ — এক-দুটো বিষয়ে A পেয়েও ৪র্থ বিষয়ের বোনাসে ৫.০০ আসতে পারে।
  • গোল্ডেন জিপিএ ৫: সব বিষয়ে A+ — কোনো A/A- নেই।

গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেলে শিক্ষা বোর্ডের ট্যালেন্টপুল বৃত্তি-তে অগ্রাধিকার, ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ বিভিন্ন বেসরকারি বৃত্তিতে সরাসরি যোগ্যতা। তবে কলেজ ভর্তিতে GPA ৫.০০ আর গোল্ডেনের মধ্যে নম্বরের পার্থক্য নেই — দুটোই সমান।

এসএসসি জিপিএ দিয়ে কলেজ ভর্তি

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয় SSC-এর GPA ও নম্বরের ভিত্তিতে — কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেই (নটর ডেমসহ কয়েকটি মিশনারি কলেজ ছাড়া)। আপনার GPA অনুযায়ী কোথায় সুযোগ —

GPA রেঞ্জকলেজের ধরন
৫.০০ (গোল্ডেনসহ)ঢাকা কলেজ, ভিকারুননিসা, নটর ডেম, রাজউক, হলি ক্রস — শীর্ষ সরকারি ও সেরা বেসরকারি কলেজ
৪.৫০ – ৪.৯৯ভালো সরকারি কলেজ ও শীর্ষ বেসরকারি কলেজে শক্তিশালী সম্ভাবনা
৪.০০ – ৪.৪৯জেলা শহরের ভালো কলেজ ও মানসম্মত বেসরকারি কলেজ
৩.৫০ – ৩.৯৯সাধারণ সরকারি ও বেসরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ
৩.৫০-এর নিচেবেসরকারি কলেজ ও কারিগরি/ভোকেশনাল পথ

মনে রাখবেন: বিজ্ঞান শাখায় ভর্তির জন্য শুধু GPA নয় — পদার্থ, রসায়ন, গণিত, জীববিজ্ঞানে আলাদাভাবে ভালো নম্বর দেখা হয়। ভর্তির আবেদন অনলাইনে xiclassadmission.gov.bd-এর মাধ্যমে হয়।

শাখা অনুযায়ী SSC-এর মূল বিষয়

GPA হিসাবে ৬টি মূল বিষয় + ১টি ৪র্থ বিষয় ধরা হয়। শাখাভেদে —

শাখাআবশ্যিকগ্রুপ বিষয় (মূল)৪র্থ বিষয় (সাধারণত)
বিজ্ঞানবাংলা, ইংরেজি, গণিতপদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান/উচ্চতর গণিতজীববিজ্ঞান বা উচ্চতর গণিত (যেটি মূল নয়)
ব্যবসায় শিক্ষাবাংলা, ইংরেজি, গণিতহিসাববিজ্ঞান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, ব্যবসায় উদ্যোগঐচ্ছিক বিষয়
মানবিকবাংলা, ইংরেজি, গণিতবাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ইতিহাস/ভূগোল/অর্থনীতিঐচ্ছিক বিষয়

বৃত্তি ও GPA — SSC-তে ভালো ফলের পুরস্কার

SSC-তে ভালো GPA শুধু কলেজ ভর্তিতেই নয় — বৃত্তিতেও বড় ভূমিকা রাখে।

  • শিক্ষা বোর্ড বৃত্তি: প্রতি বোর্ড থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল (মাসে ৬০০ টাকা) ও সাধারণ (মাসে ৩৫০ টাকা) বৃত্তি পায় — HSC পর্যন্ত চলমান।
  • ডাচ-বাংলা ব্যাংক বৃত্তি: SSC-তে GPA ৫.০০ (গ্রামীণ পর্যায়ে ৪.৮০) পেলে মাসিক বৃত্তির জন্য আবেদন করা যায়।
  • অন্যান্য বেসরকারি বৃত্তি: প্রায় সব বড় বৃত্তিতে SSC-এর GPA ন্যূনতম যোগ্যতা — ৪.৫০ থেকে ৫.০০ পর্যন্ত চাওয়া হয়।

গোল্ডেন জিপিএ ৫ থাকলে ট্যালেন্টপুল বৃত্তির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

SSC-তে কয়টি বিষয়ে পরীক্ষা হয়?

শাখাভেদে ১০–১২টি পত্রে পরীক্ষা হয়। GPA হিসাবে মূল বিষয়গুলোর গ্রেড পয়েন্ট ধরা হয় ৪র্থ বিষয়ের বোনাসসহ — উপরের ক্যালকুলেটরে ৭টি ঘরে গ্রেড বসালেই হবে।

৪র্থ বিষয় কোনটি?

শাখা অনুযায়ী ঐচ্ছিক বিষয় — বিজ্ঞানে জীববিজ্ঞান/উচ্চতর গণিতের একটি, মানবিকে অর্থনীতি/ইতিহাসসহ ঐচ্ছিক বিষয়, ব্যবসায় শিক্ষায় ঐচ্ছিক বিষয়।

এক বিষয়ে F থাকলে?

মূল বিষয়ে F থাকলে সামগ্রিক ফল F — অর্থাৎ অকৃতকার্য। ৪র্থ বিষয়ে F থাকলে কোনো সমস্যা নেই, শুধু বোনাস মিলবে না।

GPA ৫.০০ পেলেই কি গোল্ডেন A+?

না — গোল্ডেন A+ মানে প্রতিটি বিষয়ে (৪র্থসহ) আলাদাভাবে A+। শুধু গড়ে ৫.০০ হলেই গোল্ডেন নয়।

SSC-তে ইমপ্রুভমেন্ট দেওয়া যায়?

হ্যাঁ — এক/একাধিক বিষয়ে ইমপ্রুভমেন্ট দেওয়া যায়। নতুন গ্রেডই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।

কলেজ ভর্তিতে কি শুধু GPA দেখা হয়?

মূলত GPA, তবে ভালো কলেজে বিষয়ভিত্তিক নম্বরও বিবেচনায় আসে — বিশেষ করে বিজ্ঞান শাখায়।

D গ্রেড কি পাস?

হ্যাঁ — ৩৩–৩৯ নম্বরে D গ্রেড, পয়েন্ট ১.০০ — এটি পাস। F (০–৩২) হলো ফেল।

বোর্ড চ্যালেঞ্জ কীভাবে করব?

ফল প্রকাশের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বোর্ডের ওয়েবসাইট/মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ফি দিয়ে আবেদন করতে হয়। নম্বর বাড়লে গ্রেড ও GPA আপডেট হয়।

মাদ্রাসা বোর্ডের জিপিএ কি একই নিয়মে?

হ্যাঁ — দাখিলেও GPA হিসাবের সূত্র একই: (৬টি মূল বিষয়ের পয়েন্ট + ৪র্থ বিষয়ের বোনাস) ÷ ৬, সর্বোচ্চ ৫.০০। পার্থক্য শুধু বিষয়ের নামে — কুরআন, হাদিস, আরবিসহ দাখিলের বিষয়গুলোর গ্রেড উপরের ক্যালকুলেটরে বসালেই GPA বের হবে।

৯টা বিষয়ের বদলে ৭টা হলে কীভাবে?

GPA হিসাবে মূল ৬টি বিষয় + ১টি ৪র্থ বিষয় — মোট ৭টি গ্রেডই যথেষ্ট। পত্রসংখ্যা বেশি হলেও (যেমন বাংলার ২ পত্র) সেগুলো মিলে একটি বিষয়ের গ্রেড হয় — তাই ৭টি ঘরেই হিসাব সম্পূর্ণ।

ভোকেশনালের জিপিএ কীভাবে?

এসএসসি ভোকেশনালেও একই GPA সূত্র প্রযোজ্য — মূল বিষয়ের পয়েন্ট + ৪র্থ বিষয়ের বোনাস, ৬ দিয়ে ভাগ। কারিগরি বোর্ডের গ্রেডিং স্কেল সাধারণ বোর্ডের মতোই।

আরও ক্যালকুলেটর