শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ আমাদের সম্পর্কে  ·  যোগাযোগ  ·  গোপনীয়তা নীতি
হোম  » গাইড  » ডিগ্রি সিজিপিএ হিসাব করার নিয়ম | Degree CGPA Calculation
গাইড

ডিগ্রি সিজিপিএ হিসাব করার নিয়ম | Degree CGPA Calculation

Sifat Khan প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬ পড়তে সময়: ১ মিনিট

ডিগ্রি (পাস) কোর্স শেষে চূড়ান্ত ফল হাতে পেয়ে অনেকেই জানতে চান — তিন বর্ষের GPA মিলিয়ে CGPA টা হিসাব হলো কীভাবে? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রির CGPA বের হয় ক্রেডিট-ভারিত পদ্ধতিতে — তিন বর্ষের GPA-র সাধারণ গড়ে নয়। এই গাইডে ডিগ্রি CGPA হিসাবের সঠিক নিয়ম একাধিক পূর্ণ উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করা হলো — এক বর্ষের GPA থেকে শুরু করে তিন বর্ষের চূড়ান্ত CGPA, এমনকি শেষ বর্ষে কত GPA তুললে প্রথম শ্রেণি আসবে সেই উল্টো হিসাব পর্যন্ত।

ডিগ্রি CGPA হিসাব — মূল সূত্র

ধাপসূত্র
কোর্সভিত্তিক পয়েন্টগ্রেড পয়েন্ট (GP) × কোর্সের ক্রেডিট
বর্ষের GPAওই বর্ষের মোট পয়েন্ট ÷ ওই বর্ষের মোট ক্রেডিট
চূড়ান্ত CGPAতিন বর্ষের সব কোর্সের মোট পয়েন্ট ÷ তিন বর্ষের মোট ক্রেডিট
ডিগ্রির শর্তসব কোর্সে পাস + CGPA কমপক্ষে 2.00

হিসাব ঝামেলামুক্ত করতে আমাদের NU CGPA ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন — তবে যাচাইয়ের জন্য পদ্ধতিটা জেনে রাখুন।

হিসাব শুরুর আগে — তিনটি ধারণা পরিষ্কার করুন

  • গ্রেড পয়েন্ট (GP): প্রতিটি লেটার গ্রেডের একটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট থাকে — A+ = 4.00, A = 3.75, এভাবে D = 2.00 পর্যন্ত, আর F = 0.00। হিসাব শুরু হয় এই পয়েন্ট দিয়েই, কাঁচা নম্বর দিয়ে নয়।
  • ক্রেডিট: প্রতিটি কোর্স/পত্রের ওজন। ডিগ্রিতে প্রতি বর্ষে সাধারণত ৭টি পত্র থাকে, প্রতিটি ৪ ক্রেডিট করে — অর্থাৎ এক বর্ষে ২৮ ক্রেডিট, তিন বর্ষে মোট ৮৪ ক্রেডিট। বেশি ক্রেডিটের কোর্সের গ্রেড GPA-তে বেশি প্রভাব ফেলে।
  • GPA বনাম CGPA: GPA হলো একটি বর্ষের ফল, আর CGPA হলো তিন বর্ষ মিলিয়ে পুরো কোর্সের চূড়ান্ত ফল। সনদে শ্রেণি নির্ধারণ হয় CGPA দিয়ে।

কেন সাধারণ গড় নয়? কারণ প্রতি বর্ষের ক্রেডিট ও কোর্স সংখ্যা সবসময় হুবহু সমান নাও হতে পারে — আর একটি বর্ষের ফল যত বেশি ক্রেডিটের ওপর দাঁড়িয়ে, চূড়ান্ত হিসাবে তার ওজনও তত বেশি হওয়া উচিত। ক্রেডিট-ভারিত পদ্ধতি ঠিক সেটাই নিশ্চিত করে।

NU গ্রেডিং স্কেল

নম্বর (%)গ্রেডপয়েন্টনম্বর (%)গ্রেডপয়েন্ট
৮০–১০০A+4.00৫৫–৫৯B-2.75
৭৫–৭৯A3.75৫০–৫৪C+2.50
৭০–৭৪A-3.50৪৫–৪৯C2.25
৬৫–৬৯B+3.25৪০–৪৪D2.00
৬০–৬৪B3.00৪০-এর কমF0.00

স্কেলটির চরিত্র বুঝে নিন: প্রতি ৫ নম্বরের ধাপে একটি গ্রেড, প্রতি ধাপে পয়েন্টের ব্যবধান ০.২৫। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমা হলো ৪০ — এর ওপরে থাকলেই পাস (সর্বনিম্ন D), নিচে গেলেই F। F কেবল ওই কোর্সের পয়েন্ট শূন্য করে না, পুরো কোর্সটাকেই অসম্পূর্ণ রেখে দেয় — যা ডিগ্রির ক্ষেত্রে সনদ পাওয়ার পথে সরাসরি বাধা।

ধাপে ধাপে পদ্ধতি — যেকোনো ফলে প্রয়োগ করুন

  1. মার্কশিট বা অনলাইন ফল থেকে প্রতিটি কোর্সের লেটার গ্রেড ও ক্রেডিটের তালিকা তৈরি করুন।
  2. গ্রেডিং স্কেল থেকে প্রতিটি কোর্সের গ্রেড পয়েন্ট (GP) বের করুন।
  3. প্রতিটি কোর্সের GP-কে তার ক্রেডিট দিয়ে গুণ করুন — এটাই ওই কোর্সের পয়েন্ট।
  4. এক বর্ষের সব কোর্সের পয়েন্ট যোগ করুন; বর্ষের মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ দিন — পেয়ে যাবেন ওই বর্ষের GPA।
  5. তিন বর্ষের সব পয়েন্ট একসঙ্গে যোগ করে তিন বর্ষের মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ দিন — এটাই চূড়ান্ত CGPA।
  6. সবশেষে শ্রেণি বিভাগের টেবিলে মিলিয়ে দেখুন কোন শ্রেণিতে পড়লেন।

উদাহরণ ১ — এক বর্ষের GPA (৭টি পত্রের পূর্ণ হিসাব)

ধরুন, ডিগ্রি ২য় বর্ষে আপনার ৭টি পত্রের ফল এমন (প্রতিটি পত্র ৪ ক্রেডিট):

পত্রগ্রেডGPক্রেডিটGP × ক্রেডিট
পত্র ১A-3.50414.00
পত্র ২B+3.25413.00
পত্র ৩A3.75415.00
পত্র ৪B3.00412.00
পত্র ৫B+3.25413.00
পত্র ৬C+2.50410.00
পত্র ৭A-3.50414.00
মোট পয়েন্ট 91.00 ÷ মোট ক্রেডিট 28GPA 3.25

খেয়াল করুন পত্র ৬-এর দিকে: C+ (2.50) পাওয়ায় ওই একটি পত্র থেকে এসেছে মাত্র 10.00 পয়েন্ট — A- পেলে আসত 14.00। মাত্র একটি পত্রে এক ধাপ গ্রেড কমায় বর্ষের পয়েন্ট কমেছে 4.00, অর্থাৎ GPA কমেছে 4.00 ÷ 28 ≈ 0.14। কোন পত্রে গ্রেড বাড়ালে সবচেয়ে বেশি লাভ, এই হিসাব থেকেই তা স্পষ্ট হয়।

উদাহরণ ২ — তিন বর্ষের CGPA হিসাব

ধরুন, একজন ডিগ্রি শিক্ষার্থীর তিন বর্ষের ফল:

বর্ষGPAমোট ক্রেডিটGPA × ক্রেডিট
১ম বর্ষ3.1036111.60
২য় বর্ষ3.3038125.40
৩য় বর্ষ3.4540138.00
মোট114375.00

CGPA = 375.00 ÷ 114 = 3.29 (প্রথম শ্রেণি)

লক্ষ্য করুন — তিনটি GPA-র সাধারণ গড় (3.10+3.30+3.45) ÷ 3 = 3.28, যেটি সঠিক CGPA (3.29) থেকে আলাদা। কারণ প্রতি বর্ষের ক্রেডিট সমান নয়। সবসময় ক্রেডিট-ভারিত হিসাবই সঠিক।

পার্থক্যটা এসেছে এখান থেকে: এই শিক্ষার্থীর সেরা ফল (3.45) এসেছে ৩য় বর্ষে, যেখানে ক্রেডিটও সবচেয়ে বেশি (40)। ক্রেডিট-ভারিত হিসাবে সেই ভালো ফল বেশি ওজন পেয়েছে, তাই CGPA সাধারণ গড়ের চেয়ে সামান্য বেশি এসেছে। সেরা ফলটি সবচেয়ে কম ক্রেডিটের বর্ষে হলে উল্টোটা ঘটত।

উদাহরণ ৩ — উল্টো হিসাব: প্রথম শ্রেণি পেতে শেষ বর্ষে কত GPA লাগবে?

ধরুন, দুই বর্ষ শেষে আপনার অবস্থা: ১ম বর্ষে GPA 3.20 (28 ক্রেডিট → পয়েন্ট 89.60) এবং ২য় বর্ষে GPA 3.35 (28 ক্রেডিট → পয়েন্ট 93.80)। দুই বর্ষে মোট পয়েন্ট 183.40, মোট ক্রেডিট 56। তৃতীয় বর্ষেও ক্রেডিট 28 — পুরো কোর্সে মোট 84 ক্রেডিট।

  1. প্রথম শ্রেণির জন্য CGPA লাগবে কমপক্ষে 3.00 — অর্থাৎ মোট পয়েন্ট লাগবে 3.00 × 84 = 252.00
  2. হাতে আছে 183.40; বাকি লাগবে 252.00 − 183.40 = 68.60 পয়েন্ট।
  3. ৩য় বর্ষে দরকারি GPA = 68.60 ÷ 28 = 2.45 — অর্থাৎ মাঝারি মানের ফলেই প্রথম শ্রেণি ধরে রাখা যাবে।
  4. লক্ষ্য যদি হয় CGPA 3.30: মোট পয়েন্ট লাগবে 3.30 × 84 = 277.20; বাকি 277.20 − 183.40 = 93.80; দরকারি GPA = 93.80 ÷ 28 = 3.35 — অর্থাৎ ২য় বর্ষের মতোই ভালো ফল ধরে রাখতে হবে।

এই হিসাবের মূল্য হলো বাস্তব লক্ষ্য ঠিক করা: কারও জন্য প্রথম শ্রেণি প্রায় হাতের নাগালে, কারও জন্য বেশি খাটতে হবে — দুটোই আগে থেকে জানা থাকলে শেষ বর্ষের প্রস্তুতি সেভাবে সাজানো যায়।

শ্রেণি বিভাগ

CGPAশ্রেণি
3.00 – 4.00প্রথম শ্রেণি
2.25 – 2.99দ্বিতীয় শ্রেণি
2.00 – 2.24তৃতীয় শ্রেণি
2.00-এর কম / F অসম্পূর্ণডিগ্রি সম্পূর্ণ নয়

শ্রেণির সীমাগুলো গুরুত্বপূর্ণ: 3.00-ই প্রথম শ্রেণির সীমা — 2.99 পেলে দ্বিতীয় শ্রেণি, মাত্র 0.01 বেশি পেলেই প্রথম। সীমার কাছাকাছি যারা আছেন, তাদের জন্য একটি কোর্সের মানোন্নয়নই শ্রেণি বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। তাই ফল পাওয়ার পর শুধু CGPA দেখেই থেমে যাবেন না — সীমা থেকে দূরত্ব কত, তা হিসাব করে দেখুন।

ডিগ্রি CGPA নিয়ে বিশেষ বিষয়

  • F কোর্স থাকলে CGPA আটকে থাকে: ডিগ্রিতে কোনো কোর্সে F থাকলে সনদই হয় না — আগে ইমপ্রুভমেন্ট দিয়ে কোর্স শেষ করুন, তারপর চূড়ান্ত CGPA হিসাব হবে। শুধু তাই নয়, F কোর্সের GP 0.00 ধরা হলেও তার ক্রেডিট হিসাবে থেকে বর্ষের GPA-ও টেনে নামায়।
  • ইমপ্রুভমেন্টের প্রভাব: উন্নীত গ্রেড (মানোন্নয়নে Pickup, F-এ সর্বোচ্চ B+) দিয়ে CGPA আপডেট হয়। ধরা যাক, ৪ ক্রেডিটের একটি কোর্সে C (2.25) ছিল — মানোন্নয়নে B+ (3.25) হলে পয়েন্ট বাড়ে (3.25 − 2.25) × 4 = 4.00; মোট ক্রেডিট 84 দিয়ে ভাগ করলে CGPA বাড়ে প্রায় 0.05। শ্রেণির সীমার কাছে থাকলে এইটুকুই যথেষ্ট হতে পারে।
  • মাস্টার্সে ভর্তি: প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স/মাস্টার্সে ভর্তির ক্ষেত্রে CGPA গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি — ভালো CGPA ভালো কলেজ/বিষয় পেতে সাহায্য করে; ভর্তির বিস্তারিত মাস্টার্স ভর্তি গাইডে।
  • অনার্সের সঙ্গে পার্থক্য: পদ্ধতি হুবহু একই (ক্রেডিট-ভারিত), শুধু ডিগ্রিতে বর্ষ তিনটি। অনার্সের জন্য দেখুন অনার্স CGPA হিসাব।

বর্ষভিত্তিক ফল এখনো না দেখে থাকলে ডিগ্রি ১ম বর্ষ, ২য় বর্ষ ও ৩য় বর্ষ রেজাল্ট পেজ থেকে গ্রেডগুলো সংগ্রহ করুন।

সাধারণ ভুল যা অনেকেই করেন

  • তিন বর্ষের GPA-র সাধারণ গড় করা: উপরের উদাহরণেই দেখা গেছে — সাধারণ গড়ে 3.28, সঠিক CGPA 3.29। পার্থক্য ছোট হলেও শ্রেণির সীমায় এই সামান্য পার্থক্যই নির্ণায়ক হতে পারে।
  • F কোর্সের ক্রেডিট বাদ দিয়ে হিসাব করা: F-এর পয়েন্ট শূন্য হলেও ক্রেডিট ভাগের মধ্যে থাকে — বাদ দিলে GPA ভুলভাবে বেশি দেখাবে।
  • পুরনো গ্রেড দিয়ে হিসাব করা: ইমপ্রুভমেন্টের পর আপডেটেড গ্রেডই হিসাবে আসে; আগের গ্রেড ধরে হিসাব করলে ভুল ফল আসবে।
  • মাঝপথে রাউন্ড করা: প্রতি ধাপে দশমিক কেটে ফেললে শেষ ফলে ভুল জমে — রাউন্ড করুন একদম শেষে, দুই দশমিক পর্যন্ত।
  • শুধু চূড়ান্ত ফলে ভরসা রাখা: বর্ষভিত্তিক ফল আগে যাচাই না করলে ছোট একটি গরমিলও ধরা পড়ে না — প্রতি বর্ষের মার্কশিট মিলিয়ে দেখুন।

CGPA বাড়ানোর বাস্তব কৌশল — এখনো সুযোগ থাকলে

ফল হাতে পাওয়ার পর অনেকের মনে হয় “আর কিছু করার নেই” — কিন্তু সুযোগ একেবারে শেষ হয়ে যায় না। সূত্রটা জানা থাকলে বোঝা যায়, কোন পদক্ষেপে কতটা লাভ হবে:

  • আগে F সারুন: কোনো কোর্সে F থাকলে সেটিই সবার আগে শেষ করা জরুরি — F না সারলে CGPA-র চূড়ান্ত হিসাবই হয় না, সনদও আটকে থাকে। অন্য সব কৌশলের আগে এটি।
  • মানোন্নয়নে সঠিক কোর্স বাছুন: মানোন্নয়নের সুযোগ সীমিত (সর্বোচ্চ ২টি কোর্সে) — তাই যেসব কোর্সে গ্রেড সবচেয়ে কম (C/D) এবং ক্রেডিট বেশি, সেগুলোকেই বেছে নিন। হিসাবে দেখুন: ৪ ক্রেডিটের কোর্সে এক ধাপ গ্রেড বাড়লে পয়েন্ট বাড়ে ০.২৫ × ৪ = ১.০০; একই ধাপ কম ক্রেডিটের কোর্সে বাড়ালে লাভও কম।
  • Pickup পদ্ধতির সুবিধা নিন: মানোন্নয়নে দুটি ফলের মধ্যে বেশি গ্রেডটিই হিসাবে আসে — অর্থাৎ চেষ্টা করে ক্ষতি নেই; গ্রেড না বাড়লেও আগেরটাই থেকে যাবে। হারানোর কিছু নেই বলে এই সুযোগ হাতছাড়া করা বোকামি।
  • সীমার দূরত্ব মাপুন: প্রথম শ্রেণির সীমা (3.00) থেকে আপনি কত দূরে, আগে হিসাব করুন। দূরত্ব কম হলে (যেমন 0.03–0.05) একটি মানোন্নয়নেই শ্রেণি বদলে যেতে পারে — উপরের হিসাবে দেখা গেছে, একটি কোর্সের মানোন্নয়নে CGPA বাড়তে পারে প্রায় 0.05 পর্যন্ত।
  • সময়সীমা মিস করবেন না: মানোন্নয়নের সুযোগ থাকে শুধু পরের সেশনেই — সিদ্ধান্ত যত দেরি, সুযোগ হারানোর ঝুঁকি তত বেশি। নিয়মের বিস্তারিত ডিগ্রি ইমপ্রুভমেন্ট গাইডে দেখে এখনই সিদ্ধান্ত নিন।
  • শেষ বর্ষ বাকি থাকলে: কোর্স চলমান থাকলে উল্টো হিসাব (উদাহরণ ৩) দিয়ে লক্ষ্য ঠিক করুন — কোন পত্রে কতটা জোর দিলে লক্ষ্যে পৌঁছাবেন, তা আগে জানলে পড়ার পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত হয়।

মনে রাখবেন, CGPA বাড়ানোর প্রতিটি পথই নিয়মের ভেতরে — গ্রেড আপডেট হয় অফিসিয়াল ফল দিয়েই। কোনো অনিয়মিত পথে যাওয়ার চেষ্টা না করে নির্ধারিত সময়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়াটাই অনুসরণ করুন।

ডিগ্রি CGPA হিসাব — সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

ডিগ্রি CGPA কীভাবে বের করে?

তিন বর্ষের প্রতিটি কোর্সের (GP × ক্রেডিট) যোগ করে মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করুন। বর্ষভিত্তিক হিসাব চাইলে: (বর্ষের GPA × বর্ষের ক্রেডিট) গুলো যোগ করে মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করলেও একই ফল আসে।

ডিগ্রিতে প্রথম শ্রেণি পেতে কত CGPA লাগে?

3.00 বা তার বেশি হলেই প্রথম শ্রেণি। 2.25–2.99 দ্বিতীয় শ্রেণি এবং 2.00–2.24 তৃতীয় শ্রেণি।

তিন বর্ষের GPA-র গড় করলেই কি CGPA হবে?

প্রায় কাছাকাছি এলেও সঠিক হবে না, কারণ বর্ষভিত্তিক ক্রেডিট ভিন্ন হয়। ক্রেডিট-ভারিত হিসাবই অফিসিয়াল পদ্ধতি।

GPA আর CGPA-র মধ্যে পার্থক্য কী?

GPA একটি বর্ষের ফল — ওই বর্ষের কোর্সের ক্রেডিট-ভারিত গড়। CGPA হলো তিন বর্ষ মিলিয়ে পুরো কোর্সের চূড়ান্ত ফল, যা দিয়ে শ্রেণি নির্ধারণ হয় এবং সনদে তা-ই প্রতিফলিত হয়।

এক বর্ষে F থাকলে কি চূড়ান্ত CGPA পাওয়া যাবে?

না — সব কোর্স সম্পূর্ণ না হলে চূড়ান্ত CGPA ও সনদ হয় না। ইমপ্রুভমেন্ট দিয়ে F কোর্স শেষ করতে হবে।

দুই বর্ষ শেষে আংশিক CGPA বের করা যায় কি?

যায় — দুই বর্ষের মোট পয়েন্টকে দুই বর্ষের মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করলেই চলমান CGPA পাওয়া যায়। এটি চূড়ান্ত নয়, কিন্তু শেষ বর্ষে কত GPA লাগবে তা হিসাব করতে (উল্টো হিসাব) এটি অপরিহার্য।

ইমপ্রুভমেন্টের পর CGPA কি বদলায়?

হ্যাঁ — আপডেটেড গ্রেড দিয়ে হিসাব পুনরায় করা হয়, ফলে CGPA বাড়তে পারে (শ্রেণিও বদলাতে পারে)।

শেষ বর্ষে কত GPA তুললে প্রথম শ্রেণি আসবে, তা আগে থেকে জানা যাবে?

যাবে — এই গাইডের উল্টো হিসাবের উদাহরণটি অনুসরণ করুন: লক্ষ্য CGPA-র জন্য মোট যত পয়েন্ট লাগে, তা থেকে আগের বর্ষগুলোর অর্জিত পয়েন্ট বাদ দিয়ে শেষ বর্ষের ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করুন।

ডিগ্রি CGPA দিয়ে কি মাস্টার্সে ভর্তি হওয়া যায়?

হ্যাঁ — ডিগ্রি পাস করে প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স অথবা সরাসরি মাস্টার্সে (কোর্সভেদে) ভর্তির সুযোগ থাকে। CGPA ভালো হলে পছন্দের কলেজ পাওয়া সহজ হয়।

CGPA-কে শতকরা নম্বরে রূপান্তরের সূত্র আছে কি?

NU আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো সূত্র দেয় না। কোনো প্রতিষ্ঠানে শতকরা চাইলে তাদের নিজস্ব নিয়মই প্রযোজ্য হয় — অনুমানভিত্তিক সূত্রকে অফিসিয়াল মনে করবেন না।

মানোন্নয়ন দিলে CGPA কতটা বাড়তে পারে?

নির্ভর করে কোর্সের ক্রেডিট ও গ্রেডের উন্নতির ওপর। যেমন ৪ ক্রেডিটের কোর্সে C (2.25) থেকে B+ (3.25) হলে পয়েন্ট বাড়ে ৪.০০ — মোট ৮৪ ক্রেডিটে ভাগ করলে CGPA বাড়ে প্রায় 0.05। শ্রেণির সীমার কাছে থাকলে এই বৃদ্ধিই শ্রেণি বদলে দিতে পারে।

আমার হিসাবের CGPA আর অফিসিয়াল CGPA মিলছে না — কী করবো?

প্রথমে প্রতিটি কোর্সের গ্রেড, ক্রেডিট ও ইমপ্রুভমেন্ট-পরবর্তী আপডেটেড গ্রেড মিলিয়ে আবার হিসাব করুন — বেশিরভাগ অমিলই পুরনো গ্রেড ব্যবহার বা কোনো কোর্স বাদ পড়া থেকে হয়। তারপরও অমিল থাকলে কলেজের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করুন।

অনলাইনে ডিগ্রি CGPA বের করার উপায়?

NU CGPA ক্যালকুলেটরে কোর্সভিত্তিক গ্রেড ও ক্রেডিট বসিয়ে সহজেই হিসাব করা যায়।

শেষ কথা: নিজের CGPA নিজে হিসাব করে যাচাই করুন — ভুল মনে হলে কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আর F বা C/D কোর্স থাকলে সময়মতো ইমপ্রুভমেন্ট দিয়ে CGPA বাড়ানোর সুযোগটা কাজে লাগান। হিসাবের প্রতিটি ধাপ খাতায় লিখে রাখলে ভবিষ্যতে যেকোনো বর্ষের ফল যাচাই করা সহজ হবে — বিশেষ করে ইমপ্রুভমেন্টের পর নতুন ফল এলে পুরনো হিসাবের পাশে নতুন হিসাব রেখে পার্থক্যটা মিলিয়ে দেখতে পারবেন।

আরও পড়ুন

লিখেছেন Sifat Khan

Notes BD-এর লেখক ও সম্পাদক। বাংলাদেশের শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি দপ্তরের অফিসিয়াল নোটিশ যাচাই করে রেজাল্ট, রুটিন, ভর্তি, বৃত্তি ও বইয়ের আপডেট লেখেন। প্রতিটি লেখায় অফিসিয়াল সূত্র যাচাই করা হয়, যাতে পাঠক সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য পান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।